plate of rice and cooked meat

জনশ্রুতি আছে, আদিকালের হিন্দুদের দেবতার ভোগে এ চাল ব্যবহার হতো। তাই কাটারির সাথে ভোগ কথাটি যোগ হয়। কালের বির্বতনে তা দেবতার ভোগ থেকে অভিজাত শ্রেণীর আচার অনুষ্ঠানে স্থান পায়। আজো দিনাজপুরের কাটারিভোগ ও সুগন্ধি চাল দেশি-বিদেশি অতিথি আপ্যায়নে সুনাম বজায় রেখেছে।
এ চালের পোলাও ছাড়া বিরিয়ানি, জর্দ্দা, পায়েশ ও ফিরনি বেশ চমৎকার ও সুস্বাদু- যা জিভে জল আনে।
কাটারিভোগ চাল মাথার দিকে ছুরির মতো একটুখানি চোখা ও বাঁকা। যেমন সুগন্ধি তেমনি খেতেও সুস্বাদু।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, আর্যদের আগমনের পূর্ব থেকেই দিনাজপুরে কাটারিভোগ ধানের চাষ হয়ে আসছে। এরপর একে একে অন্যান্য সুগন্ধি ধানও এ এলাকায় চাষাবাদ শুরু হয়।

Advertisements
ad sample1
Advertisements
ad sample1

কথিত আছে, দিনাজপুরের রাজা প্রাণনাথের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে রাজাকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের দরবারে। রাজা প্রাণনাথ সম্রাটের সাথে দেখা করতে হীরা, পান্না, স্বর্ণমুদ্রা ছাড়াও কাটারিভোগ চাল সঙ্গে নিয়ে যান। সম্রাট হীরা, পান্না উপঢৌকন হিসেবে পেয়ে যতটা না খুশি হয়েছিলেন, তার থেকে বেশি খুশি হয়েছিলেন কাটারিভোগ চাল পেয়ে। এই খুশিতে সম্রাট প্রাণনাথকে ‘মহারাজা’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে কাটারিভোগ খেতে সুস্বাদু ও সুগন্ধ ছড়ায়।দিনাজপুরসহ সারা দেশে প্রধান পোলাও, বিরিয়ানি, কাচ্চি, জর্দা, ভুনা-খিচুড়ি, ফিরনি, পায়েশসহ আরও নানা পদের সুস্বাদু ও দামি খাবার তৈরিতে সুগন্ধি চাল বেশি ব্যবহার হয়। বিয়ে, পূজা-পার্বণ, সেমিনার, ওয়ার্কশপসহ সব ধরনের অনুষ্ঠানে সুগন্ধি চালের ব্যবহার অতি জনপ্রিয়। অনেক সচ্ছল পরিবারে, বনেদি ঘরে সাধারণ চালের পরিবর্তে সুগন্ধি (কাটারিভোগ, বাংলা মতি) সিদ্ধ চালের ভাত খাওয়ার রেওয়াজ অহরহ দেখা যায়।
এছাড়াও চাইনিজ, ইটালিয়ান, ইন্ডিয়ান হোটেল/ রেস্টুরেন্ট, পাঁচ তারকা হোটেল/ মোটেল পর্যটন কেন্দ্রে প্রধানত সুগন্ধি চালের ভাত, পোলাও নানা পদের খাবার পরিবেশনে দিনাজপুরের সুগন্ধি চাল কাটারিভোগ ব্যবহার করা হয়।
মজার ব্যাপার হলো, এই কাটারিভোগ চাল পৃথিবীর অন্য কোনো দেশ তো দূরে থাক, বাংলাদেশেরই অন্য কোনো জেলায় রোপণ করলে ঘ্রাণ ও স্বাদ বদলে যায়। এমনকি দিনাজপুরের সব এলাকাতেও কাটারিভোগ ধান চাষাবাদ হয় না।
তাই তো জিআই পণ্য হিসেবে বাংলাদেশের কাটারিভোগ চাল নিবন্ধনের প্রক্রিয়ায় এগিয়ে রয়েছে। G I এর পূর্ণরূপ হলো Global Identity বা ভৌগোলিক নির্দেশক। বাংলাদেশ সরকার দেশের ঐতিহ্যবাহী আরও ২৩ পণ্যের জন্য জিআই নিবন্ধন পেতে আবেদন করেছেন।

Advertisements

Written by

aainatv

aaina tv is an online content sharing platform